চন্দ্রকোনা রোডের ক্ষীরপাই আজও বিখ্যাত সেখানকার বাবরসার জন্য

কার্ত্তিক গুহ,ঝাড়গ্রাম :- বর্ধমানের বিখ্যাত সিতাভোগ-মিহিদানা, কামারপুকুরে বিখ্যাত সাদা বোঁদে, শক্তিগড়ে বিখ্যাত ল্যাংচা আর ক্ষীরপাইয়ে? জানেন নিশ্চয়। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, বাবরসা। চন্দ্রকোনা রোডের ক্ষীরপাই আজও বিখ্যাত সেখানকার বাবরসার জন্য। কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়তেই পৌঁছয় সেখানকার এই প্রসিদ্ধ মিষ্টি। কিন্তু মিষ্টি প্রস্তুতকারকরা এখন কেমন আছেন? প্রদীপের নিচে যেমন অন্ধকার থাকে তেমন আর্থিক অন্ধকারেই রয়েছেন তাঁরা। নিজেদের মুখেই সেকথা জানাচ্ছেন। বিক্রি কমেছে, কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তাই লাভের মুখও দেখতে পাচ্ছেন না অনেকে।

কেমনভাবে তৈরি হয় এই বাবরসা? কারিগররা জানিয়েছেন, মূলত ময়দা আর ঘি দিয়ে তৈরি হয় এই বাবরসা। আগে মধু দিয়ে পরিবেশন করা হতো। যাঁদের মিষ্টি খেতে সমস্যা তাঁরা শুকনোও খেতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে চড়া মূল্যর বাজারে মধু দিয়ে বাবরসা পরিবেশনের রেওয়াজ উঠেই গেছে। মধুর পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে এখন চিনির রসের সঙ্গে বাবরসা পরিবেশন করা হয়।

স্বাদও সম্পূর্ণ আলাদা। আর সেকারণে খাদ্য রসিকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বাবরসার নাম। কিন্তু প্রচারের অভাবে সেভাবে ব্যবসা জমাতে পারছে না বাবরসা। লাভও হচ্ছে কম। আর সেকারণে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলস্বরূপ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে চলেছে এই মিষ্টি।

কারিগরদের বক্তব্য, “শুধুমাত্র বাবরসা তৈরি করে আমাদের সংসার চলে না। সারাদিন পরিশ্রম করে যা পারিশ্রমিক জোটে তা খুবই সামান্য। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে আর এই কাজ নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই।” আগে টাকায় তিনটে বা চারটে বাবরসা বিক্রি হত। কিন্তু বর্তমানে বাবরসা পিছু দাম ৮ টাকা বা ১০ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এর নিচে বিক্রি করা অসম্ভব। তাই ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এই মিষ্টি থেকে। অনুরোধ সরকারি কোনও সাহায্য পেলে সুরাহা মিলবে তাঁদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *